সৃজনশীলতার বিকাশে শিক্ষা
সৃজনশীলতার বিকাশে শিক্ষা
শিক্ষা ও সৃজনশীলতার মাঝে আছে এক গভীর সম্পর্ক । কোন শিক্ষিত ব্যক্তি যে সৃজনশীল হবেন এটা স্বাবাভিক। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে, বর্তমানে আমাদের শিক্ষব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের কতটা সৃজনশীল করেছে বা করছে? এই জটিল প্রশ্নের উত্তর আমি ধাপে ধাপে দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। এই জটিল পরিস্তিতিতে কি করা যায় সেটাও ভাবতে হবে। একজন শিশু বা শিক্ষার্থীর সৃজনশীল শিক্ষার জন্য পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রয়েছে বিশাল ভূমিকা। এই ভূমিকা সম্পর্কে আমরা সচেতন আছিতো? সচেতন থাকলেও তা আবার কতটুকু সেটা ভাববার বিষয়। সৃজনশীলতা এবং নতুনত্ব এই দুটি বিষয়ের মাছে এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
সৃজনশীলতা বলতে আসলে আমরা কি বুঝি? সৃজশীলতা হচ্ছে নতুন কিছু তৈরি করার সামর্থ্য, কোন সমস্যার সমাধান অথবা নতুন শৈল্পিক গঠন বা কাঠামো। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সামর্থ, অভিভাবকদের আর্থিক সামর্থ ও স্কুল কমিটির আর্থিক সামর্থ অনেকাংশে বেড়েছে একথা অনস্বীকার্য
। কিন্তু সৃজনশীলতার বিকাশ কমেছে অনেক। বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া কেউ কোন ম্যাগাজিন বের করেনা। এইসব কাজ করা এখন শিক্ষকদের ঝামেলা মনে হয়। অথচ আগেকার দিনে এই শিক্ষকেরা স্কুল কমিটিকে উৎসাহ যোগাত স্কুল ম্যাগাজিন বের করার জন্য। নি:সন্দেহে এটি একটি সৃজনশীল কাজ। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষক, ছাত্র ও অভিভাবক সবাই মিলে মহা ব্যস্ত কোচিং, বিভিন্ন ধরনের মডেল টেস্ট, টেস্ট পেপার সলভ, জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রথ্যাশা, টিচারের বাসায় ছোটাছুটি ইত্যাদি ইত্যাদি।
কোন শিশুকে যদি কোন চিড়িয়াখানায় বা কৃষিখামারে বা কোন ভ্রমনের ছবিযুক্ত বই দেখানো হয় তাহলে ঐ শিশুটি ঐ জায়গাগুলোতে না গিয়েও বইতে দেখানো জায়গাগুলো সম্পর্কে একটা ধারণা লাভ করে। এই ধারণা কিন্ত কিন্তু তাদের ভবিষৎ জীবনেও প্রভাবিত হবে। এটাই সৃজনশীলতা বর্তমানে এই সচিত্র বইয়ের বড় অভাব।
বর্তমানে আমাদের পুরো শিক্ষাব্যবস্থাটাই পরীক্ষা নির্ভর ও পরীক্ষা কেন্দ্রিক। যেমন শিক্ষক "দেশপ্রেম" সম্পর্কে একটা কবিতা পড়াচ্ছেন ক্লাসে। শিক্ষার্থীরা কিন্তু কবিতা বোঝার চেয়ে চিন্তা করছে কিভাবে এই কবিতা থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখা যায়। অথচ কবিতাটি লেখার উদ্দেশ্য ছিল মহৎ। এখানে কবিতার উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম জাগানো। উদ্দেশ্য বাহত। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে যে, শিক্ষকের সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরির দক্ষতা। শিক্ষক যদি সঠিক মানের সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরি করতে পারে তাহলে বাজারে নোট বা গাইড বই শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করতে পারবে না। সৃজনশীল প্রশ্ন বলে কয়ে হয় না। ধীরে ধীরে প্রশ্ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হয় যাতে করে প্রশ্ন সত্যিকার অর্থে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করতে পারবে। শিক্ষার্থীরা কি পড়বে, কোথা থেকে পড়বে, কীভাবে পড়বে এ বিষয়গুলোর চেয়ে বেশি জরুরি হচ্ছে তাদের বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী যা যা জানার কথা সেগুলো তারা জানে কিনা এই বিষয়টির প্রকৃত মূল্যায়ন করা এবং তার শিক্ষা নিজেরা আত্নস্ত করতে পেরেছে কিনা এবং বাস্তবে এর প্রয়োগ করতে পারবে কিনা যে জন্য তারে এই শিক্ষা।
আমরা শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদেরকে বেশি বেশি হোমওয়ার্ক দিচ্ছি। হোমওয়ার্কের জ্বালায় বাচ্চারা নড়তে পারছেন। কতগুলো সাবজেক্টের হোমওয়ার্ক । আমার কথা হচ্ছে বাচ্চদের আমরা হোমওয়ার্ক আদৌ দেব কিনা, দিলেও কতটুকু দেব সেটা চিন্তা করার সময় এসেছে এখন। শিক্ষাদানের পদ্ধতিতে বাচ্চারা কি ধরনের সমস্যায় পড়ছে, সেই সমস্যা থেকে বাচ্চদের বের করার পদ্ধতি শিক্ষকদেরকেই বের করতে হবে। [মুস্তাফিজুর রহমান]
No comments