মায়াবী চাঁদ
আজ থেকে প্রায় ছয় হাজার বছর আগের কথা। এক শহরের বসবাসকারী লোকজনের মধ্যে একজনের ছিল এক কাঠের বাড়ি। লোকটির নাম ছিল হ্যামারোজা। তার এই কাঠের বাড়িতে সবাই বসবাস করতে চাইত। সবার এই আশা হ্যামারোজা কোনভাবেই পূরণ করতে পারতো না। না পারার কারনে তাকে বহুবার বিপদের সম্মূখীন হতে হয়।
এই কাঠের বাড়িতে থাকতে চাওয়ার রয়েছে বিশেষ একটা কারণ। কারণটি হলো, এই কাঠের বাড়িটি যে জায়গায় অবস্থিত, সেখান থেকে চাঁদকে সম্পূর্ণরূপে দেখা যেত। অন্য বাড়ি থেকে তা যেত না। চাঁদের আলো সেই বাড়িটিতে এমনিভাবে পড়ত যে, রাতে আর বাতি জ্বালানোর প্রয়োজন হত না। হ্যামারোজা পেশায় ছিল সাধারণ কৃষক। সে সারাদিন পরিশ্রম শেষে চাাঁদের আলোয় মন ভরাতো। হঠাৎ একদিন সে দেখতে পেল যে, তার প্রতিবেশীরা হিংসা করে তার সেই কাঠের বাড়ির পাশে বিরাট এক বাড়ি তৈরি করতে শুরু করেছে। হ্যামারোজা এ দৃশ্য দেখে খুবই মর্মাহত হন।
সে ভাবতে থাকে কী করা যায়। সে সেই মায়াবী চাঁদকে দেখতে থাকে, আর তাকে হারাবার ভয়ে দিন গুনতে থাকে। ফলে সেদিন চলেই আসে। কষ্টে দিন কাটাতে থাকে। সে জানালা বন্ধ করে রাখে। এভাবেই এক মাস কেটে যায়। এক মাস পর হঠাৎ সে জানালাটা খুলে। জানালা খুলে দেখে চাঁদই যেন তার বাড়ির উপর সেই আগের মত আলো দিচ্ছে। সে অবাক হয়ে চেয়ে থাকে সেই মায়াবী চাঁদটির দিকে। চাঁদটি যেন মুচকি হেসে বলছে, তোর মায়ায় আবার ফিরে এসেছিরে! হ্যামারোজা আবার সুখে দিন কাটাতে শুরু করে। চাঁদটিকে সে বড়ই ভালবাসে।
লেখক: এম এইচ নাজিরা
নবম শ্রেণি
ধানমন্ডি গার্লস সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, ঢাকা
No comments